মানুষ নেই, গাড়ির চিহ্নও নেই। অথচ মরুভূমির মাটিতে পড়ে থাকা শত শত কেজির পাথর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরে যায়। পেছনে রেখে যায় দীর্ঘ আঁকাবাঁকা দাগ। বছরের পর বছর এই রহস্য ঘিরে ছিল নানা কৌতূহল। পরে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পান এর অবিশ্বাস্য কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের রেসট্র্যাক প্লায়া নামের একটি শুকনো হ্রদতলেই দেখা যায় এই অদ্ভুত ঘটনা। এখানকার কিছু পাথর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজে থেকেই জায়গা বদলায় বলে মনে হয়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, পাথরগুলো চলার সময় মাটির ওপর দীর্ঘ দাগ রেখে যায়। কোনোটি সোজা পথে, আবার কোনোটি আঁকাবাঁকা পথে এগোয়।
কীভাবে চলে পাথর?
রহস্যের উত্তর লুকিয়ে আছে পানি, বরফ ও বাতাসে।
শীতকালে বৃষ্টির পানি বা তুষার গলে রেসট্র্যাক প্লায়ায় অল্প পানি জমে। রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে সেই পানির ওপর পাতলা বরফের স্তর তৈরি হয়। দিনের বেলায় সূর্যের তাপে বরফ ভাঙতে শুরু করলে বাতাস ভাসমান বরফের টুকরোগুলোকে ঠেলে দেয়।
আর সেই বরফের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাথরও ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।
অর্থাৎ, পাথর নিজেরা হাঁটে না—বরফ ও বাতাসই তাদের সরিয়ে নেয়।

চোখে দেখা যায় না কেন?
এই ‘পাথরের যাত্রা’ এত ধীর এবং বিরল যে খালি চোখে ঘটনাটি দেখা অত্যন্ত কঠিন। গবেষকরা ক্যামেরা ও GPS ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত পাথরের চলাচল রেকর্ড করেন। দেখা যায়, কয়েকশ কেজি ওজনের পাথরও ভেজা মাটির ওপর দিয়ে কয়েকশ মিটার পর্যন্ত সরে যেতে পারে।
বরফ গলে পানি শুকিয়ে গেলে পাথরের রেখে যাওয়া দাগগুলো মাটিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দূর থেকে দেখলে তাই মনে হয়, পাথরগুলো যেন নিজেরাই মরুভূমির বুকে হেঁটে বেড়িয়েছে।
রহস্যের সমাধান হলেও বিস্ময় রয়ে গেছে
পাথরের ‘হাঁটা’ এখন আর অলৌকিক রহস্য নয়। বিজ্ঞান এর ব্যাখ্যা দিয়েছে। কিন্তু মাত্র কয়েক মিলিমিটার পুরু বরফ, সামান্য পানি আর বাতাস মিলে শত শত কেজি ওজনের পাথরকে সরিয়ে দিতে পারে—প্রকৃতির এই কাণ্ড আজও কম বিস্ময়কর নয়।
অদ্ভুত সত্য হলো—মরুভূমির বুকে হাঁটে না পাথর, হাঁটিয়ে নেয় প্রকৃতি।
তথ্যসূত্র: U.S. National Park Service, PLOS ONE গবেষণা, U.S. Geological Survey.
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
ভিন্ন স্বাদের খবর এর সর্বশেষ খবর