সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সৌদি আরব। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান প্রদেশের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলাগুলো ঠিক কখন চালানো হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।
আল-মালিকি এসব হামলাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘বিপজ্জনক উসকানি’ ও ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। হামলাগুলো দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্য সরাসরি হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, হুমকির উৎস মোকাবিলা করতে জোট ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ’ নেবে।
এদিকে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় পৃথক এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি খাতের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন নাগরিক ও বাসিন্দা আহত হন এবং কয়েকটি স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফলে কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
পরে হুথিরা দাবি করে, গত তিন দিনে ইয়েমেনে সৌদি আরবের চালানো ১২০টির বেশি হামলার জবাবেই তারা এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বড় পরিসরের দূরপাল্লার সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
এর আগে হুথিরা অভিযোগ করেছিল, উত্তর ইয়েমেনের আল-জাওফ প্রদেশের আল-হাজম এলাকায় একটি কারাগারে সৌদি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। তবে সৌদি আরব এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়েমেনে বেড়েছে সংঘাত
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। এর পরের বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযান শুরু করে।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার হুথিদের কাছ থেকে দখল করা এলাকা পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে।
গত বৃহস্পতিবার হুথিরা পশ্চিম তাইজ ও দক্ষিণ হোদেইদা হয়ে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী আল-মাখা ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। পরে সংঘাত আল-দালিয়া, মারিব, আল-জাওফ ও আল-বাইদা প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, ২৪ আগস্ট থেকে ইয়েমেনে প্রায় ১ হাজার ৭৮ জন নিহত বা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার থেকে ২১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর