সুন্দরবনের কুখ্যাত ডন বাহিনীর প্রধানসহ ১২ সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাঁরা ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জমা দেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এই অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক ও দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে এর আগে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর মোট ৩৭ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (৮ই সেপ্টেম্বর) বিকেল ৬টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন আত্মসমর্পণ করেন।
এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলাসহ ৬টি ওয়াকিটকি জমা দেন। আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যুরা হলেন,জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫), শফিকুল ইসলাম (৫৩) ও আজিজুর রহমান। তাদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও বাগেরহাটের রামপাল এলাকায়।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, “আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জেলে-বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন। জব্দকৃত অস্ত্র ও আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। যারা অপরাধ চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর