২৫০ শয্যার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালটি ২ জুলাই থেকে ৪০০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও সেই হাসপাতালটি চলছে ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে। এতে করে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ৪০০ শয্যার এই হাসপাতালে দ্বিগুন সংখ্যক রোগী সব সময়ের জন্য ভর্তি থাকেন। আবার আউটডোরেও অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
স্বপ্লসংক্ষক জনবল দিয়ে বিপুল সংখ্যক ওই রোগী সামলাতে হাফিয়ে উঠেছেন হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা । ৪০০ শয্যার রোগীর জন্য খাবার বরাদ্দ হলেও জনবল বৃদ্ধি না তা তদারকি কটতে হিমশিম খেতে হচ্ছে । জয়পুহাট জেলার রোগী ছাড়াও যোগাযোগের সুবিধা হওয়াতে দিনাজপুরের হাকিমপুর, নওগাঁ জেলার ধামুইরহাট ও বদলগাছি এবং বগুড়ার শীবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলা থেকে প্রচুর সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসে। প্রতিদিন ওই ৪০০ বেডের হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০জন। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৪০০ রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা দিতে হয়। ভর্তিকৃত প্রায় ৮০০ রোগীর পাশাপাশি আউটডোরেও প্রচুর সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকে।
প্রতিদিন আউটডোরে গড়ে প্রায় ১হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ জন রোগীর চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। সল্পসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে দারুনভাবে বেগ পেতে হচ্ছে। ৪০০ বেডের হাসপাতালের ৩০৫ জন চিকিৎসক, ২৩৫ জন নার্স ও ৪০৮জন কর্মচারী প্রয়োজন। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক মাত্র ৩১জন, নার্স ১২৫ জন ও কর্মচারী রয়েছে মোট ৪৫ জন। এদিকে নাক কান গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নাই, নাই কিডনি রোগের বিশেষজ্ঞ মেডিসিনের চিকিৎসক নেফো্রলজিষ্ট।
২০২২ সাল থেকে জয়পুরহাটের এই হাসপাতলে কিডনি ফেলিয়র রোগীদের ডায়ালাইসিসের ম্যাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। কিডনি ফেলিয়র ১০ জন রোগীকে প্রতিদিন ডায়ালাইসিসের ম্যাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু শুরু থেকেই কিডনি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নেফ্রোলজিষ্ট নাই। অতি দ্রুত ১জন নেফ্রোলজিষ্ট নিয়াগ জরুরী হয়ে পড়েছে বলে রোগীর আত্মীয় স্বজনরা জানান। এদিকে গত ৪ বছর পূর্বে আইসিইউ চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হলেও শুধুমাত্র অজ্ঞানের একজন চিকিৎসক না থাকায় আইসিইউ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এই হাসপাতালে ভর্তিকৃত আইসিইউ প্রয়োজনীয় রোগীদের বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়ে থাকে। স্পর্শকাতর ওই রোগীদের জীবনের ঝুকি নিয়ে আইসিইউ এর জন্য অন্যত্র নিতে হয়।
ফলে অনেক রোগী রাস্তাতেই মারা যায়। বিশেষ করে গরীব রোগীদের জন্য বিষয়টি কঠিন হয়ে পড়ে। সিটিস্ক্যান ও এমআরআই মেশিনসহ আধুনিক যন্তপাতি না থাকায় রোগীরা কাংক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। আবার হাসপাতালে অনেক প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ওইসব পরীক্ষা করে আনতে হয়। ওষধেরও সংকট রয়েছে বলে রোগীরা জানিয়েছে। জয়পুরহাট সদর উপজেলার দাদরা জন্তিগ্রামের ভর্তি হওয়া রোগী মানিক জানান, তাকে সিরাপ ও ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। একাধিক রোগীর সাথে আলাপ করে ওষধের সংকটের বিষয় জানা যায়।
৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডা: সরদার রাশেদ মোবারক সাংবাদিকদের বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও জনবল চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। চাহিদা মোতাবেক জনবল ও ওষুধ পাওয়া গেলেই রোগীরা কাংক্ষিত সেবা পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর