দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব ফেয়ার ২০২৬’, যার আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউসেপ বাংলাদেশ। ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত অল্টারনেটিভ লার্নিং প্রজেক্ট (ALP) এবং জিআইজেড-এর Advantage প্রজেক্ট-এর আওতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজন তরুণদের জন্য নতুন কর্মজীবনের সুযোগ উন্মোচনের পাশাপাশি নিয়োগদাতা ও চাকরিপ্রত্যাশীদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে।
দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেলা কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চাকরিপ্রত্যাশীরা এখানে সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ, পরামর্শ ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ আবদুল করিম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব মো. মোস্তফা কামাল এবং জিআইজেডের অ্যাডভান্টেজ প্রজেক্টের উপদেষ্টা জনাব এইচ. এম. আসাদ উজ জামান।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তি জ্ঞান এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা দেশের টেকসই উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি মূলধারার বাইরে থাকা তরুণদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ইউসেপ বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বিশেষ অতিথিগণ তরুণদের দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি দক্ষ, উৎপাদনশীল এবং কর্মসংস্থানমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোঃ আবদুল করিম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তিনি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরা দ্রুত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পায়।
এবারের জব ফেয়ারে আরএফএল, প্রাণ, হাতিল, নাভানা, ওয়ালটন, রানার, হোন্ডা, এসিআই ও ট্রান্সকমসহ দেশের ১৭টি শীর্ষস্থানীয় নিয়োগ প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ওয়াক-ইন ইন্টারভিউ’, যেখানে বহু চাকরিপ্রত্যাশী সরাসরি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির সুযোগ লাভ করেন।
আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু তরুণদের কর্মসংস্থানের পথই সুগম করে না, বরং শিল্পখাতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সরবরাহের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ‘জব ফেয়ার ২০২৬’ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর