পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে অদ্ভুত আকৃতির একটি সামুদ্রিক মাছ। স্থানীয়ভাবে ‘কিং চান্দা’ নামে পরিচিত মাছটির শরীর চ্যাপ্টা ও পাখনা প্রশস্ত হওয়ায় দেখতে অনেকটা বাদুড়ের মতো। ব্যতিক্রমী মাছটি মহিপুর মৎস্য মার্কেটে আনা হলে মুহূর্তেই সেটিকে ঘিরে তৈরি হয় কৌতূহল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাছটি বিক্রির জন্য মহিপুর মৎস্য মার্কেটে আনা হয়। তিন কেজি ওজনের মাছটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় জেলে, মাছ ব্যবসায়ীসহ উৎসুক মানুষ।
পরে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে মোট ২ হাজার ২৫০ টাকায় মাছটি বিক্রি হয়। ‘রিপন ফিশে’ বিক্রির জন্য মাছটি আনা হলেও পরে কুয়াকাটার ‘আল-আমিন ফিশ বারবিকিউ’ তাদের ফ্রাই দোকানের জন্য মাছটি কিনে নেয়।
স্থানীয়রা জানান, মাছটির শরীর প্রায় গোলাকার ও চ্যাপ্টা। পিঠ ও পেটের পাখনাগুলো বেশ প্রশস্ত হওয়ায় দূর থেকে দেখতে অনেকটা বাদুড়ের মতো। এমন আকৃতির মাছ সচরাচর দেখা না যাওয়ায় বাজারে আনার পর থেকেই এটি দেখতে মানুষের ভিড় জমে।
স্থানীয় জেলে জামাল বলেন, সাগরে প্রতিদিনই নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। তবে এতটা চ্যাপ্টা ও বাদুড়ের মতো দেখতে মাছ খুব কমই দেখা যায়। মাছটি বাজারে আসার পর অনেক মানুষ সেটি দেখতে ভিড় করেছেন।
আরেক জেলে রহিম বলেন, গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ জালে ওঠে। কিন্তু এই মাছটির আকৃতি অন্য মাছের তুলনায় একেবারেই আলাদা। এর আগে এমন মাছ খুব কমই দেখেছেন তিনি।
মৎস্য ব্যবসায়ী কামাল ব্যাপারী বলেন, মাছটির ব্যতিক্রমী আকৃতি দেখে ক্রেতা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। পরে সেটি প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Platax teira। এটি সামুদ্রিক পরিবেশে বসবাসকারী ব্যাটফিশ বা বাদুড় মাছের একটি প্রজাতি। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘লংফিন ব্যাটফিশ’ বা ‘টেইরা ব্যাটফিশ’ নামে পরিচিত।
তবে কুয়াকাটা উপকূলে ধরা পড়া মাছটি ঠিক কোন প্রজাতির, তা নিশ্চিত করতে ছবি ও নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের মাছের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। তবে কুয়াকাটায় ধরা পড়া মাছটির প্রজাতি নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়লেও বিরল ও কম পরিচিত প্রজাতিগুলোর সঠিক পরিচয় নথিভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য ভবিষ্যতে দেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
এক্সক্লুসিভ এর সর্বশেষ খবর