সিটি ব্যাংকের ভুল তথ্যের কারণে গ্রাহকের ৯০ হাজার টাকা একটি ডরমেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে আটকে গেছে। সম্প্রতি সিটি ব্যাংকের হেল্পলাইন কর্মকর্তাদের দেয়া ভুল নির্দেশনার কারণে আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক সেলিম তালুকদার।
নিজের ফেসবুক পোস্টে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন সেলিম তালুকদার। তার দাবি, সিটি ব্যাংকে তার দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় দুটি অ্যাকাউন্টই ডরমেন্ট অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্টের তথ্য হালনাগাদ করে গত ২২ সেপ্টেম্বর সেটি সক্রিয় করেন তিনি।
দুটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে তার সিটিম্যাক্স ও ভিসা মিলিয়ে মোট চারটি কার্ড থাকায় কোন কার্ডটি কোন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত আছে এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না। বিষয়টি জানতে ওই দিন বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে সিটি ব্যাংকের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেন তিনি।
সেলিম তালুকদার বিডি২৪লাইভকে বলেন, মাহাবুব নামের একজন হেল্পলাইন কর্মকর্তা তার কলটি রিসিভ করেন। কার্ডের শেষ কয়েকটি ডিজিট ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ জানতে চাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলো কোন অ্যাকাউন্টের বিপরীতে রয়েছে তা নিশ্চিত করেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই সেলিম সক্রিয় করা অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করেন।
পরদিন একটি পয়েন্ট অব সেল (POS) মেশিনে ওই কার্ড দিয়ে লেনদেনের চেষ্টা করলে সেটি ‘Declined’ দেখায়। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে তিনি আবার সিটি ব্যাংকের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেন। এবার রনি নামের একজন কর্মকর্তা কলটি রিসিভ করেন বলে জানান সেলিম।
তার দাবি, কার্ডটি কেন ডিক্লাইন হয়েছে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা জানান, অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে এবং কার্ডও সক্রিয় রয়েছে। তবে POS মেশিনটি অন্য ব্যাংকের হওয়ায় লেনদেনটি ডিক্লাইন হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তাও কার্ডটি তার সক্রিয় অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত বলে নিশ্চিত করেন বলে দাবি করেন সেলিম।
এরপর ঘটে মূল সমস্যাটি। সেলিমের অভিযোগ, পরদিন এটিএম মেশিনের মাধ্যমে ওই কার্ড ব্যবহার করে তিনি ৯০ হাজার টাকা জমা দেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, টাকা তার সক্রিয় অ্যাকাউন্টে না গিয়ে আগের ডরমেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। ফলে টাকা তিনি ব্যবহার করতে পারছেন না।
শুধু তাই নয়, সেলিমের দাবি, ওই ডরমেন্ট অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ টাকা বকেয়া ছিল, যা তার জমা করা অর্থ থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে।
সেলিম তালুকদার আরও বলেন, ব্যাংকের হেল্পলাইন থেকে যদি তাকে সঠিক তথ্য দেয়া হতো, তাহলে তিনি ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতেন না। তার প্রশ্ন, ব্যাংকের কর্মীদের দেয়া ভুল তথ্যের কারণে সৃষ্ট সমস্যার দায় কেন গ্রাহককে বহন করতে হবে।
ঘটনার পর সিটি ব্যাংকের হেল্পলাইনে বিষয়টি জানালে ব্যাংকের পক্ষ থেকে তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন সেলিম। তবে তার অভিযোগ, তাৎক্ষণিকভাবে টাকা ফেরত বা সমস্যার কার্যকর সমাধান দেয়া হয়নি। বরং ব্যাংকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি তার।
ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, ভুল তথ্যের কারণে তার প্রায় ৯০ হাজার টাকা দুই থেকে তিন দিনের জন্য আটকে গেছে। এই সময়ে তিনি নিজের অর্থ ব্যবহার করতে পারেননি। তার অভিযোগ, শুধু ‘সরি’ বললেই এই ভোগান্তির দায় শেষ হয়ে যায় না।
সেলিম তালুকদার জানান, পুরো ঘটনার বিষয়ে সিটি ব্যাংকের হেল্পলাইনে তার করা কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ বা মামলা করার কথাও ভাবছেন।
তার দাবি, ব্যাংকের ভুল তথ্য ও ব্যবস্থাপনার কারণে যে আর্থিক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তার যথাযথ সমাধান এবং জবাবদিহি চান তিনি।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর