মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পর শনিবার ভোরে মেঘনা নদী থেকে হেলাল মিয়ার বড় মেয়ে সামিয়া, বড় ছেলে সজীব ও ছোট ছেলে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তাদের বাবা হেলাল মিয়া।
শনিবার সকালে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ তিনটি শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় করেন। পরে সজীব ও শামীমের জানাজা গ্রামের ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এবং জানাজা শেষে তাদের চরিত্রকোনা কবরস্থানে দাফন করা হয়। এছাড়া সামিয়ার জানাজা শেষে তাকে কালিকাপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহতদের মামা হায়াত মিয়া জানান, শনিবার ভোরে মেঘনা নদীতে তিনজনের মরদেহ ভেসে উঠলে স্বজনরা তাদের শনাক্ত করেন। এরপর মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই রাইসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর দুই দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর আজ ভোরে হেলাল মিয়ার তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
এদিকে নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবীন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। মরদেহ বাড়িতে আনার পর স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর