কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলার ১৮টি থানায় একযোগে চালানো এবারের অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে- এমন বিভিন্ন স্থান, কিশোরদের আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একদিকে কুমিল্লাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে অপরাধপ্রবণতাও কমে আসছে। আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে রোববার রাতে শুধু কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্তত চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আড্ডা দেয় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আলোচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং অপরজন অন্য একটি গ্যাংয়ের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অতীতের অপরাধ কর্মকাণ্ডও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এর আগে কুমিল্লায় গত বুধবার ও শনিবার রাতে একইভাবে অভিযান চালিয়ে ৮৭৮ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে ৫৯৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য ২৮১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে তিন দফা অভিযানে ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে গত বুধবার রাতেও কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এরপর শনিবার রাত আটটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালানো অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৬ কিশোরকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। অপর ১০৮ জনের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর