কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত ‘জনতা ব্যাংক’ ভবনের ক্যাপসুল লিফটের নিচ থেকে মো. কিরণ মিয়া (৪০) নামের এক রংমিস্ত্রির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত কিরণ মিয়া নগরীর দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার সুন্দর আলীর ছেলে। তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে নাশতা করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন কিরণ মিয়া। এরপর তিনি আর ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর রাতে ওই ভবনে যান। পরে লিফট মেকানিক রাজু ঘটনাস্থলে এসে লিফট খুললে নিচে কিরণ মিয়ার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনার পর থেকে ভবনের দারোয়ান পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার সময় ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। স্থানীয়রা জানান, এদিন দুপুরে ভবনের মালিকের ছেলে শুভ অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় কিরণ মিয়া তার কাছে বকেয়া বেতনের টাকা চাইতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
লিফট মেকানিক রাজু জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তখন ভবনের লোকজন কিরণ মিয়াকে খুঁজছিলেন। লিফটটি জেনারেটরের মাধ্যমে চলার সময় হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। তবে লিফট কীভাবে বন্ধ হলো এবং কিরণ মিয়া কীভাবে এর নিচে আটকা পড়লেন, তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
ভবনের মালিক খোরশেদ আলম বলেন, সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর লিফটের নিচে লাশ পাওয়া যায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই শরীফ আহমেদ জানান, বাড়ির মালিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর