বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের (পিএফআইএল) অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আমানতকারীরা। তাদের দাবি, একাধিকবার সময় দেওয়া হলেও আটকে থাকা আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। এখন আর নতুন করে সময় না দিয়ে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
গতকাল রবিবার ৪ অক্টোবর ২০২৬ইং বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩য় তলায় আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বঞ্চিত আমানতকারী ঐক্য পরিষদ, প্রাইম ফাইন্যান্স (পিএফআইএল)’-এর প্রতিনিধিরা এ দাবি জানান। তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৮ জুন প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কয়েকটি শর্ত পূরণের জন্য সময় দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ হয়নি। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল পরিচালনা পর্ষদ ও স্পনসরদের মাধ্যমে অন্তত ১০০ কোটি টাকা নতুন মূলধন সংগ্রহ, ৫৭০ কোটি টাকার তারল্য সংস্থান এবং সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ের ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই চিঠিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে প্রশাসক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হয়েছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। আমানতকারীদের অভিযোগ, সময় পার হলেও শর্ত পূরণ এবং তাদের পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
অন্য একটি নথিতে দেখা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর আমানতকারীদের পক্ষ থেকে পিএফআইএলের কাছে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো মূলধন ফেরতের দাবি জানানো হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়া না হলে প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের দাবি করা হয়।
আমানতকারীদের অভিযোগ, তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের অর্থ পিএফআইএলে আটকে আছে। এর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ এবং প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থও রয়েছে। দীর্ঘদিন অর্থ না পাওয়ায় অনেক পরিবার চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
অন্য নথির তথ্যমতে, পিএফআইএলের তিন হাজারের বেশি ব্যক্তি আমানতকারী রয়েছেন এবং প্রায় ৩২৮ কোটি টাকা আটকে আছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর আমানতকারীদের একটি দল প্রতিষ্ঠানটির ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের গেট আটকে অর্থ ফেরতের দাবিতে অবস্থানও নেয়।
আমানতকারীরা এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও আবেদন করেছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একজন প্রশাসক বা রেজল্যুশন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও লেনদেনের স্বাধীন নিরীক্ষা, সম্পদের মান যাচাই এবং আমানতকারীদের পাওনা ফেরতের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ। অবৈধ সম্পদ স্থানান্তর বা অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সম্পদ জব্দের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনার পর পিএফআইএলসহ পাঁচটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অতিরিক্ত তিন মাস সময় দেওয়ার তথ্যও রয়েছে সংশ্লিষ্ট নথিতে। ওই সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে প্রতিষ্ঠানটির অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।
অবসায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু, আমানত ফেরতের পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সংরক্ষণ ও পাওনা আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমানতকারী ঐক্য পরিষদ। তাদের ভাষ্য, আর সময় বাড়ানো বা শুধু আশ্বাস নয়, এখন কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর