ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রথমবারের মতো নারীদের জন্য বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে অংশ নেওয়া নারীদের আগ্নেয়াস্ত্র চালনা, প্রাথমিক চিকিৎসা, গেরিলা কৌশল, কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকা এবং বিভিন্ন সামরিক দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (৪ অক্টোবর) তেহরানের ইমাম হোসেইন স্কয়ারে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের ‘জান ফাদা’ বা ‘জীবন উৎসর্গ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারীদের জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে কালো চাদর পরা বহু নারী অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে নারীদের অ্যাসল্ট রাইফেল ব্যবহারের পাশাপাশি জিপলাইনে চলাচল, প্রাথমিক চিকিৎসা, গেরিলা কৌশল এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার বিভিন্ন পদ্ধতি শেখানো হয়। ইরানে ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স উইক’ বা পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের বিভিন্ন স্থানে এক হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রতিরোধ ব্যাটালিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এর আগে মে মাসেও তেহরানে নারী ও শিশুদের অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল। এবার নারীদের জন্য আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হলো।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক মোবিনা নাসিরিও এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল। তিনি ক্যামেরার সামনে প্রয়োজনে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রোববার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও বলেন, চলমান সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তবে শত্রুরা আবার সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নিলে ইরানের জবাব আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশটি আরও শক্তি দিয়ে নিজেদের রক্ষা করবে।

এর আগে ইরানের ‘জান ফাদা’ কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাজ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে ইরানি দূতাবাসের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল। তবে ইরানি দূতাবাস দাবি করেছিল, ‘জান ফাদা’ কর্মসূচি কোনো ধরনের শত্রুতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে জি৭ নেতারা জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর