মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে “চিকিৎসা সেবায় মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা ও গুরুত্ব” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ৬ই অক্টোবর ২০২৬ইং জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে ১০ম গ্রেড প্রদানের দাবি জানিয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এম-ট্যাব সভাপতি এ কে এম মুসা লিটনের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মোঃ বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও এম-ট্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডাঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও কেন্দ্রীয় ড্যাবের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী, কোষাধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ মেহেদী হাসান এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান দিপু।
সভায় বক্তারা বলেন, রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে নির্ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। রোগীর নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, ম্যামোগ্রাফি, ডেন্টাল সেবা, ফিজিওথেরাপি, রেডিওথেরাপি, স্যানিটেশন পরিদর্শন এবং ওষুধ সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণসহ চিকিৎসা সেবার কার্যক্রমে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্টরা প্রত্যক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া সত্ত্বেও মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত বৈষম্যের শিকার। সমশিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ সহ অন্যান্য সকল ডিপ্লোমাধারীদের ১০ম গ্রেড প্রদান করা হলেও তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে --অদ্যবধি তাদের দশম গ্রেড প্রদান করা হয়নি। পদোন্নতির পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় চাকরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই পদে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা দক্ষ জনবলের কর্মস্পৃহায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দেশে প্রয়োজনের তুলনায় মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্টের ঘাটতি রয়েছে। জনবলের অভাবে অনেক হাসপাতালে আধুনিক ও ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয় টেকনোলজিষ্ট না থাকায় রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। অথচ দেশে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্ট বেকার রয়েছেন। এতে একদিকে দক্ষ জনশক্তির অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থে গড়ে ওঠা প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, করোনা মহামারির সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা দিন-রাত কাজ করেছেন। করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু মহামারি শেষ হওয়ার পর তাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্টদের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে আর কোনো ‘কোয়ারি’ দিয়ে তাদের ন্যায্য দাবি ঝুলিয়ে রাখা উচিত নয়। অবিলম্বে ১০ম গ্রেড প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
অধ্যাপক ডাঃ ডোনার আরও বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এ আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে এম-ট্যাব মহাসচিব মোঃ বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, দবির উদ্দিন তুষার, রওশন আলী রাজু, মাহবুবার রহমান, আনোয়ার হোসেন, শিশির, মিজানসহ অনেক মেডিকেল টেকনোলজিষ্টকে কারাবরণ করতে হয়েছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের ন্যায্য দাবির প্রতি আন্তরিক—এ বিশ্বাস থেকে তিনি দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভা থেকে অবিলম্বে ১০ম গ্রেড প্রদান, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি, পদোন্নতির বিধানসহ স্ট্যান্ডার্ড সেটআপ অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সের আনুপাতিক হারে নতুন পদ সৃজন এবং মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট কাউন্সিল/হেলথ প্রফেশনাল কাউন্সিল গঠন করার জোর দাবি জানানো হয়। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আগড্যাবের সভাপতি ডাঃ মির্জা লুৎফর রহমান লিটন, নার্সেস নেত্রী বিলকিস জাহান, এম-ট্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি খাজা মাঈন উদ্দিন মঞ্জু, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব দবির উদ্দিন তুষার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান, নাছির আহমেদ রতন, রওশন আলী রাজু, মোঃ রুহুল আমিন, নুর মোহাম্মদ মিয়া, মোঃ মামুনুর রশীদ, আব্দুর রব আকন্দ, মোঃ আইনুল হক, মোঃ সাইদুর রহমান সিদ্দিকী, অসীম ঘোষ, আব্দুল বাকী,কাজী মাসুম, সিকদার জসিম উদ্দিন এমাদুল হক, মেহেদী হাসান, নিয়াজ আকুঞ্জি, মিজানুর রহমান, শেখ মহম্মদ ফয়সাল, সোহেল রানাসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর