কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আল-নূর হসপিটালে গাইনি চিকিৎসক খাইরাতুন হিসান কেয়ার অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত নবজাতকের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় প্রসূতি নাজমা আক্তার বর্তমানে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নাজমা আক্তার উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের খামার পুষ্করণী গ্রামের ওমান প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নাজমা আক্তার গর্ভধারণের পর থেকে একই হাসপাতালের চিকিৎসক আফরোজা হাশেম নুপুরের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় গর্ভের শিশুটি পানিশূন্যতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানানো হয় এবং সিজারিয়ান অপারেশনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। কিন্তু আল-নূর হসপিটালের অপর গাইনি চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া প্রসূতিকে নরমাল ডেলিভারির শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
গত ৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে প্রসব বেদনা উঠলে নাজমা আক্তারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ভোর পাঁচটায় রোগী ভর্তি হলেও ডা. কেয়া বেলা ১১টার পর হাসপাতালে আসেন। রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে গেলেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেন এবং অতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগ করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ব্যাপক টানাহেঁচড়ার ফলে নবজাতকের মাথায় গুরুতর আঘাত ও রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে অন্য এক চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীকে দ্রুত আইসিইউ সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হলেও ডা. কেয়া নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এতে নবজাতকটি জরায়ুর মুখে আটকে গিয়ে মারা যায়।
পরবর্তীতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নাজমা আক্তারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে কুমিল্লার ইনসাফ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সহায়তায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত নবজাতককে বের করা হয়। প্রসূতি নাজমা আক্তার বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের অবহেলায় তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে এবং স্ত্রী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসক খাইরাতুন হিসান কেয়া বলেন, তিনি নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু রোগীর অবস্থা ভালো না হওয়ায় তাকে কুমিল্লায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল জানান, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর