মৌলভীবাজারের জুড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল আয়োজনের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। গত ১৪ অক্টোবর সকালে জুড়ী উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক কিশোর রায় চৌধুরী মনির নির্দেশনায় মিছিলটি সংঘটিত হয়। মিছিলের কয়েক ঘণ্টা পরই কিশোর রায় চৌধুরী মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মামলায় মো. শামীম মোল্লা (২৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। জুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম জামিল হাসান অনিক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, জুড়ী উপজেলা পরিষদের সামনের কুলাউড়া-বড়লেখা সড়কে ছাত্রলীগের ব্যানারে ৫০-৬০ জনের একটি দল ঝটিকা মিছিল করেছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে শামীম মোল্লাকে আটক করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কিশোর রায় চৌধুরী মনির নির্দেশে মিছিলটি সংঘটিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
একটি সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে জুড়ীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক নেতা আওয়ামী লীগের গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছেন। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর জুড়ীতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের আগের দিন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কিশোর রায় চৌধুরী মনির বাসভবনে মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়। ওই বৈঠকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক সিরাজুল ইসলামসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিক্ষোভ মিছিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কিশোর রায় চৌধুরী মনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজাহারে শামীম মোল্লা ছাড়া অন্য যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন—হাবিবুর রহমান জয়, শাহরিয়ার মাহবুব, এ আর সাজেদ, সালেহ উদ্দিন আহমদ, রুয়েল উদ্দিন, বিন্দু পাল, সিদ্দিকুর রহমান সুমন, আছলম উদ্দিন, ফয়জুল ইসলাম কালা, মাজেদুল, মিজানুর রহমান খোকন, আশরাফুল ইসলাম আশরাফ, শিপার মিয়া, সাইদুল ইসলাম, জুয়েল আহমদ ওরফে জুয়েল রানা এবং তারেক হাসান।
আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে মিছিল করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৮, ৯, ১১ ও ১২ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর