কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর রিসোর্টটির দুই মালিক নিয়াজ মোর্শেদ ও তানভীরের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাঁদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ১০ পর্যটক নিহত এবং অন্তত ছয়জন আহত হন।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের নিয়াজ মোর্শেদ রিসোর্টটির মালিক। তানভীর নামের আরেক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম স্বত্বাধিকারী। অগ্নিকাণ্ডের পর তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইমস) অহিদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় উখিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, রিসোর্ট পরিচালনায় যেসব মালিক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অবহেলা পাওয়া যাবে, তাঁদের মামলায় আসামি করা হবে। ইতোমধ্যে রিসোর্টের কর্মকর্তা সুমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মালিকদের অবস্থান শনাক্তে কাজ চলছে।
তবে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, রিসোর্টের দুই মালিকের একজন পরিবারসহ দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। অন্যজন দেশেই রয়েছেন। যদিও এ তথ্যের সত্যতা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ছয়জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত ১০ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন।
তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ।
এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)।
অন্য দুই নিহত পর্যটকের নাম জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং রিসোর্ট পরিচালনায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবস নয়, তিন দিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি কাজ করবে।
এদিকে রিসোর্টের দুই মালিকের অবস্থান শনাক্তের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে কারও অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর