চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক শিক্ষার্থী। তবে তার ফলাফল নিয়ে সন্দেহ ছিল এক বন্ধুর। ওই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার মতো যোগ্য নয় বলে মনে করত সে। সেই সন্দেহ থেকেই গোপনে বন্ধুর খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করে। পরে পুনর্নিরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া ওই শিক্ষার্থী আসলে পরীক্ষায় ফেল করেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনা তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় ঘটনাটি তাঁর সামনে আসে। তাঁর দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর পড়াশোনার প্রস্তুতি ও যোগ্যতা সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল তার এক বন্ধুর। বন্ধুর এই ফলাফল নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় কৌতূহলবশত সে খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করে।
পোস্টে দাবি করা হয়, প্রচলিত ব্যবস্থায় ভেরিফিকেশন কোড ছাড়াই অন্যের খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করার সুযোগ থাকায় ওই বন্ধু বিষয়টি গোপনে করতে পেরেছিল। পরে পুনর্নিরীক্ষার ফলাফলে ওই শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়ার তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত নম্বরের বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে বলে উল্লেখ করা হয়।
হাবিবুর রহমানের পোস্টে নম্বর পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো বিষয়ে শূন্য পাওয়া শিক্ষার্থীর নম্বর ৮৫ করা হয়েছিল। আবার ১৩ নম্বর পাওয়া একজনের নম্বর ৮৩ দেখানো হয়েছিল। এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে জিপিএ-৫ পাওয়ার ফল তৈরি করা হয়েছিল বলে পোস্টে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনাটি সত্য হলে তা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, নম্বর সংরক্ষণ ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, পুনর্নিরীক্ষার নথি কিংবা স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া না গেলে ঘটনাটিকে নিশ্চিত জালিয়াতি হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন হবে না।
ফলাফলে কীভাবে এমন অসংগতি তৈরি হলো, এর পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং কীভাবে নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
শিক্ষা এর সর্বশেষ খবর