ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে কয়েক দশক পর যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের অস্থায়ীভাবে গণকবর দেওয়ার প্রশিক্ষণ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ভবিষ্যৎ কোনো সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি হলে কীভাবে দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে নিহত সেনাদের মরদেহ সংরক্ষণ করা হবে, তা যাচাই করতেই এ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায়নি। ওই যুদ্ধে প্রায় ৩৭ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে—এমন খবরের মধ্যেই এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য উচ্চমাত্রার যুদ্ধ এবং ব্যাপক সেনা হতাহতের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে এ মহড়া চালানো হয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে থার্ড কর্পস সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, ২০তম ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড এবং সামরিক চ্যাপলিনসহ ধর্মীয় সহায়তাকারী সদস্যরা অংশ নেন।
মহড়ায় খননযন্ত্র ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করে অস্থায়ী কবর তৈরির সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে নিহত সেনাদের মরদেহ অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করার পদ্ধতিও যাচাই করা হয়, যাতে যুদ্ধ শেষ হলে ফরেনসিক ও নৃতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা সহজে মরদেহ উত্তোলন, শনাক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নিতে পারেন।
ইরাক ও আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সে সময় বড় আকারের অস্থায়ী গণকবর খোঁড়ার প্রয়োজন হয়নি।
মার্কিন সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, নিহত সেনাদের মরদেহের যথাযথ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে পরিচয় শনাক্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সব পর্যায়ের সেনাসদস্যের।
থার্ড কর্পস সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস ডেলবার্ট রুয়েডে বলেন, উচ্চমাত্রার সংঘাতের পরিস্থিতিতে নিহত সেনাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁদের মরদেহ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য এ মহড়া গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল যুদ্ধ শুরু হলে আমাদের হয়তো পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হতো। আমরা এখন বৈজ্ঞানিক ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত পদ্ধতি অনুসরণ করছি, যাতে নিহত সেনাদের মরদেহের নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা যায়।’
মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ফোর্ট ব্র্যাগে অনুষ্ঠিত এ মহড়াটি গত ২০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম, যেখানে সেনা চ্যাপলিন ও ধর্মীয় বিষয়ক কর্মকর্তারা যুদ্ধক্ষেত্রে অস্থায়ী দাফনসংক্রান্ত ধর্মীয় সহায়তার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
তবে এই মহড়াকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বরং সম্ভাব্য বড় সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানির পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বিষয়টি সামনে এসেছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর