যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা কিংবা রাজনৈতিক চাপ দিয়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে দেশটির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বানকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অবস্থান তুলে ধরে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী যৌথ বিবৃতি দেয়। এতে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।
বিশেষ করে উত্তর কোরীয় শ্রমিক নিয়োগ এবং দেশটির সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিষিদ্ধসংক্রান্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় ওই বিবৃতিতে।
পশ্চিমা দেশগুলোর এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ দুর্বলদের ওপর কাজ করতে পারে, কিন্তু আমাদের ওপর কখনোই নয়।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞাকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রের অবস্থানকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারবে না।
উত্তর কোরিয়ার দাবি, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশটির সার্বভৌম অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না পিয়ংইয়ং।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে উত্তর কোরিয়ার প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর থেকে দেশটির ওপর একাধিক দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এসব নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা।
তবে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিকভাবে সেই মর্যাদা স্বীকৃত নয়।
সূত্র: রয়টার্স
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর