সুন্দরবনে ফের বনদস্যু ও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ও স্থায়ীভাবে দস্যুতা নির্মূলের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পৃথক দুটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার শ্যামনগর সদর ও সুন্দরবন সংলগ্ন হরিনগর বাজারে জেলে-বাওয়ালী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন লিটনের নেতৃত্বে এ আন্দোলনে কয়েক শতাধিক জেলে, বাওয়ালী, মৌয়াল ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবনে দস্যুতা এখন প্রহসনের মঞ্চ নাটকে পরিণত হয়েছে। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান উৎস। প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। কিন্তু বনদস্যুদের আতঙ্কে তারা নিরাপদে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণ করতে পারছেন না।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বনদস্যুদের হাতে প্রায়ই জেলেরা অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মুক্তিপণের দাবিতে জেলে পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। একটা দস্যুদলের আত্মসমর্পণের বিপরীতে দুটি নতুন দস্যুদলের আত্মপ্রকাশ ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় বক্তারা সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে ৩ দফা দাবি জানান: ১. বনদস্যুদের বিরুদ্ধে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা ও গুরুত্বপূর্ণ নদী ও খালে টহল বৃদ্ধি। ২. জেলে-বাওয়ালীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা ও জরুরি হটলাইন চালু। ৩. আত্মসমর্পণের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে সময় শেষে কঠোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
মানববন্ধন থেকে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, এর আগে ৫ দিনব্যাপী টানা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। ৮ই নভেম্বর বুড়িগোয়ালিনী রেঞ্জ অফিসের সামনে মহা সমাবেশের ঘোষণা দেন প্রধান সমন্বয়কারী সালাউদ্দিন লিটন।
মানববন্ধন শেষে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক ও শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাফিউল ইসলামের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত সমন্বিত অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর