ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার সকাল থেকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে বেরিয়ে আসেন। পরে তারা নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শ্রমিকেরা।
সকালে আশুলিয়ার বুড়িরপাড়া এলাকার নিট এশিয়া কারখানায় শ্রমিকেরা প্রবেশ করে হাজিরা নিশ্চিত করার পর বেরিয়ে আসেন। পরে তারা নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে এক পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানালে তারা কিছু সময় সড়কের পাশে অবস্থান করেন। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকেরা আবারও সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান নেন।
এদিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে শারমিন গ্রুপের পাশাপাশি হা-মীম গ্রুপসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে বেরিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিশ্চিন্তপুর এলাকার অনন্ত গার্মেন্টসসহ আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এর আগে শনিবার আশুলিয়ার জামগড়া, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, কাঠগড়া ও জিরাবো এলাকায় কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে অন্তত ৩০টি কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। রবিবার সকালে এসব কারখানাসহ আশপাশের অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।
শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অবিলম্বে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছেন। তবে তিনটি কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিকদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কারখানা কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করতে রবিবার সকাল থেকে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ। মাইকিংয়ে শ্রমিকদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, তাদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে শিল্প পুলিশ আন্তরিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ শ্রমিকদের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে শিল্পাঞ্চল পুলিশ সব সময় পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানানো হচ্ছে।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সকাল থেকে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। তবে তিনটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর