গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে “গাজীপুর প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন” কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার জামালপুর বাজার সংলগ্ন আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিস সেন্টার মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ আহমদ কবির বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. জুয়েল হাসানের সঞ্চালনায় সভায় উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার মূল কার্যক্রম শুরু হয়।
সভায় কালীগঞ্জের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক মালিকরা স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন অন্তরায় ও লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। এ সময় বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক মালিকরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজি হেলথ) লাইসেন্স প্রাপ্তি প্রক্রিয়ায় তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা লাইসেন্সসহ মোট ১২টি ভিন্ন ভিন্ন লাইসেন্স সংগ্রহ করতে গিয়ে মালিকদের নাভিশ্বাস উঠে যায়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অতিরিক্ত হয়রানির কারণে বৈধ উপায়ে সেবা পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আহমদ কবির বুলবুল বলেন, “আমরা সরকারের নিয়ম-কানুন মেনেই স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করতে চাই এবং জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু একটি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রাখতে গেলে যেভাবে ১২টি আলাদা লাইসেন্স এবং বিভিন্ন দপ্তরের কাগজপত্রের পেছনে ঘুরতে হয়, তা অত্যন্ত দুর্বিষহ ও অযৌক্তিক। এতে যেমন হয়রানি বাড়ছে, তেমনি অনেক সময় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য তৈরি হয়। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে দাবি জানাই, এই লাইসেন্স প্রাপ্তি প্রক্রিয়াকে যেন আরও সহজ, দুর্নীতিমুক্ত ও ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এর আওতাভুক্ত করা হয়। অন্যথায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
আলোচনা সভা শেষে উন্মুক্ত প্রশ্নউত্তর পর্বে আয়োজকবৃন্দ উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম, অনুমোদনহীন কিছু ক্লিনিকের অবৈধ কার্যক্রম এবং সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে আয়োজক কমিটির নেতারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সেগুলোর জবাব দেন। তারা জানান, সংগঠনের আওতাধীন কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য খাতের অনিরাপদ ও লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যে গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন, তাকে স্বাগত জানিয়ে মালিকপক্ষ বলেন, ভালো ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ও ডায়াগনস্টিক মালিকদের যৌথভাবে কাজ করা উচিত।
সবশেষে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত সুসম্পর্ক বজায় রেখে কালীগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর