টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬কে ঘিরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চলমান টানাপড়েনের মাঝে অবশেষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। দীর্ঘ নীরবতার পর তারা জানিয়েছে, এই বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে চায় এবং কোনো আঞ্চলিক বা দ্বিপাক্ষিক বিরোধে জড়াতে আগ্রহী নয়।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সেক্রেটারি বান্দুলা দিসানায়েকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিরোধে শ্রীলঙ্কা কোনো পক্ষ নেবে না। তার ভাষায়, “এই তিন দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থানেই থাকব।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কোনো দেশ চাইলে শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে তাদের টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রস্তুত থাকবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আইসিসির এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানও বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, পাকিস্তান সম্ভাব্যভাবে টুর্নামেন্ট বয়কট বা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এই প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কা সরকার ও দেশটির ক্রিকেট বোর্ড টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনিল কুমারা গামাগে জানিয়েছেন, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আওতায় রাখা হবে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক টানাপড়েনের কারণে ভারত ও পাকিস্তান বর্তমানে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে একে অপরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে থাকে। সে অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর