ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, মানুষ রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। পূর্ববর্তী শাসকগোষ্ঠী নারী ও যুবকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ তাদের ভোটাধিকারের ব্যবহার করবেন। এবারের নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং দেশের পুনর্গঠনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতায় এলে বিএনপি শুধু সরকার পরিচালনা নয়, দেশের পুনর্গঠনে উদ্যোগ নেবে।
তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষি কার্ড’ চালুর কথাও জানান। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ঋণ নিতে পারবে এবং সার ও কীটনাশক পাবে। ধানের শীষের প্রার্থী নির্বাচিত হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়া রেজিস্টার্ড এনজিও থেকে নেওয়া কৃষি ঋণও সরকার পরিশোধ করবে।
উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, কৃষি প্রধান এলাকায় কলকারখানা স্থাপন করা হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চা কারখানা ও শিল্পকারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি হিমাগার নির্মাণ, যুবকদের জন্য আইটি পার্ক, মেডিকেল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, গত এক দশকে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থেই ব্যস্ত ছিল, ফলে সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যসেবার জন্য হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যও রয়েছে, এবং এই কাজের জন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এক দল অন্য দলের সমালোচনা করতে পারে, কিন্তু শুধু সমালোচনা করে জনগণ কিছু পায় না। জনগণ জানতে চায় তাদের জন্য কী করা হবে। বিএনপি জনগণের কল্যাণমুখী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং জনগণকেই সকল ক্ষমতার উৎস হিসেবে দেখে। তিনি দেশের এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে, তরুণরা বেকার থাকবে না, এবং সবাই চিকিৎসা সুবিধা পাবে।
দেশ স্বাধীন করার পাশাপাশি ২৪ বছর ধরে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে শক্ত করতে এবং দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য হবে না; যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। ধানের শীষের প্রার্থী নির্বাচিত হলে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করা হবে বলেও জানান বিএনপির চেয়ারম্যান।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর