বহুল আলোচিত ‘জুলাই সনদে’ অবশেষে স্বাক্ষর করেছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা-য় গিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে স্বাক্ষর করেন। এ সময় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে এনসিপির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যমুনায় যান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।
এর আগে আইনি ভিত্তি ও সংস্কারের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে আপত্তির কারণে এনসিপি সনদে স্বাক্ষর থেকে বিরত ছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্য পূরণে দলটি ঐতিহাসিক এই সনদে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়, যা রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের পথ সুগম করেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এবং সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করে।
কমিশনগুলোর সুপারিশের মধ্যে ১৬৬টি প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্যে পৌঁছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করা হয়।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর