দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—মেসির পারিবারিক শেকড়ের একটি অংশ ছিল ব্রাজিলেও। ইতিহাসের গতিপথ সামান্য ভিন্ন হলে হয়তো আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির বদলে ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতেও দেখা যেতে পারত তাকে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর প্রকাশিত এক গবেষণায় ইতালীয় ইতিহাসবিদ ফিওরেনজো সান্তিনি মেসির পারিবারিক বংশতালিকা অনুসন্ধান করে এই তথ্য তুলে ধরেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মেসির এক প্রপিতামহ ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরে বিশ শতকের শুরুর দিকে তার পরিবার আর্জেন্টিনায় চলে যায়।
এই গল্পের শুরু মেসির প্রপিতামহের বাবা রানিয়েরো কোচেত্তিনিকে দিয়ে। ইতালির সান সেভেরিনো মার্কেতে জন্ম নেওয়া রানিয়েরো স্ত্রী রোজা রিচেজ্জাকে নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় পাড়ি জমান। সে সময় ইতালি থেকে বহু মানুষ দক্ষিণ আমেরিকায় অভিবাসন করছিলেন। সেই অভিবাসনপ্রবাহের অংশ হিসেবেই পরিবারটি ব্রাজিলে পৌঁছায়।
সান্তোস বন্দরে পৌঁছানোর পর অভিবাসন নথিভুক্তির সময় পরিবারের নাম ও পদবিতে পরিবর্তন আসে। রানিয়েরো কোচেত্তিনি নথিতে হয়ে যান রামিয়েরো কনসেন্তিনি। সময়ের সঙ্গে পরিবারের পদবিও বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে।
পরে পরিবারটি সাও পাওলোর গ্রামাঞ্চলে চলে যায় এবং কৃষিকাজে যুক্ত হয়। মার্তিনিও প্রাদো জুনিয়রের খামারে কাজ করার সময় পরিবারের এক সন্তানের জন্ম হয় রিবেইরাও প্রেতোতে। নথিভুক্তির সময় তার নামও বদলে যায়—আর্দেরিগো কোচেত্তিনি হয়ে যান ফেদেরিকো কুচ্চিতিনি। এই ফেদেরিকোই পরবর্তীতে লিওনেল মেসির প্রপিতামহ হন।
তবে ব্রাজিলে পরিবারটির অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ফেদেরিকো কুচ্চিতিনির বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন তার পরিবার ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। পরবর্তীতে এই শহরেই মেসির পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের জীবন গড়ে ওঠে।
এরপর থেকে পরিবারের ইতিহাস পুরোপুরি আর্জেন্টিনাকেন্দ্রিক হয়ে যায়। বহু বছর পর রোজারিওতেই জন্ম নেন লিওনেল মেসি, যিনি পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন।
এই গবেষণা প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—মেসি কি ব্রাজিলের হয়ে খেলতে পারতেন? ঐতিহাসিকভাবে তার পারিবারিক শেকড়ের একটি অংশ ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও শুধু দূরবর্তী কোনো পূর্বপুরুষের জন্মস্থান জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করে না। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী নাগরিকত্ব ও আইনি সম্পর্কই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মেসির জন্ম, নাগরিকত্ব, ফুটবল শিক্ষা এবং পুরো ক্যারিয়ারই আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুক্ত।
তবে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ভিন্নভাবে ঘটলে পরিস্থিতি হয়তো অন্যরকম হতে পারত। মেসির প্রপিতামহের পরিবার যদি সাও পাওলো ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে না যেত, তাহলে হয়তো লিওনেল মেসির জন্মই হতো অন্য কোনো দেশে। সেক্ষেত্রে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকাকে ব্রাজিলের জার্সিতেও দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত।
ফিওরেনজো সান্তিনির গবেষণা আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসির পারিবারিক ইতিহাসে যোগ করেছে এক বিস্ময়কর অধ্যায়। আজ মেসিকে আর্জেন্টিনা ছাড়া অন্য কোনো দেশের জার্সিতে কল্পনা করাও কঠিন। অথচ এক শতাব্দীরও বেশি আগে তার পরিবারের একটি অংশ ব্রাজিলের গ্রামাঞ্চলে বসবাস করত—ফুটবল ইতিহাসে যার প্রভাব নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
স্পোর্টস এর সর্বশেষ খবর