• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২৮ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

যে কফির দাম লাখ টাকা! বিশ্বের অন্যতম দামি পানীয়

ছবি: সংগৃহীত

এক কাপ কফির জন্য আপনি কতটা অদ্ভুত গল্পের দাম দিতে রাজি?

এক কাপ কফির জন্য আপনি কত টাকা খরচ করতে রাজি? ৫০০ টাকা, ১ হাজার টাকা—হয়তো বিশেষ কোনো ক্যাফেতে গেলে আরও কিছুটা বেশি। কিন্তু যদি বলা হয়, এমন এক কফি আছে যার এক কেজি কিনতেই খরচ হতে পারে কয়েক লাখ টাকা, তাহলে নিশ্চয়ই অবাক হবেন। আরও অবাক করা বিষয় হলো, এই কফির বিশেষত্ব শুধু এর দুষ্প্রাপ্যতা বা স্বাদে নয়। এর তৈরির প্রক্রিয়াতেই রয়েছে বিস্ময়কর এক গল্প।

কফির বীজ প্রথমে খায় হাতি। এরপর সেই বীজ হাতির পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো ও রোস্ট করে তৈরি করা হয় বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দামি কফি—Black Ivory Coffee।

Black Ivory Coffee-এর নিজস্ব অনলাইন স্টোরে বর্তমানে তাদের ‘The Collector’ ১ কেজি কফির দাম ৩,৫০০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে এটি কয়েক লাখ টাকার সমান। একই ব্র্যান্ডের ৪০ গ্রামের ‘Treasure’ প্যাকের দাম ১৭০ ডলার এবং ১ পাউন্ডের ‘Reserve’-এর দাম ১,৭০০ ডলার। অর্থাৎ এটি এমন কফি নয়, যা প্রতিদিনের সকালের নাশতার সঙ্গে এক কাপ করে খাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ কিনবেন।

বরং এটি অত্যন্ত সীমিত উৎপাদনের বিলাসবহুল কফি, যার ক্রেতা মূলত বিশেষ ধরনের কফিপ্রেমী, সংগ্রাহক এবং বিলাসবহুল হোটেল-রেস্তোরাঁর গ্রাহক। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—‘বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফি’ কথাটি বাজার ও প্যাকেজভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একে বিশ্বের অন্যতম দামি ও বিরল কফি বলা বেশি নির্ভুল।

ছবি: সংগৃহীত

কফি তৈরিতে হাতির ভূমিকা

Black Ivory Coffee তৈরি হয় থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং রাই প্রদেশে উৎপাদিত Arabica কফি দিয়ে। ব্র্যান্ডটির তথ্য অনুযায়ী, হাতে বাছাই করা কফি চেরি হাতিদের খাদ্যের সঙ্গে দেওয়া হয়। হাতি সেগুলো খাওয়ার পর বীজ তার পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যায়। পরে মল থেকে কফির বীজ আলাদা করে ভালোভাবে ধুয়ে, শুকিয়ে এবং রোস্ট করা হয়। শুনতে অদ্ভুত হলেও এখানেই এই কফির বিশেষত্ব। কফির বীজ হাতির পরিপাকতন্ত্রে থাকার সময় বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। Black Ivory Coffee এটিকে bio-fermentation বা জৈব-গাঁজন প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করে।

হাতির পেটে গেলে কফির কী পরিবর্তন হয়?

সাধারণ কফি তৈরির ক্ষেত্রে কফির বীজ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও রোস্ট করা হয়। কিন্তু Black Ivory Coffee-এর ক্ষেত্রে বীজের যাত্রা একটু ভিন্ন। হাতি যখন কফি চেরি খায়, তখন তার পরিপাকতন্ত্রে থাকা এনজাইম ও অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার প্রভাবে কফির বীজে পরিবর্তন ঘটে। কোম্পানিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার ফলে কফির তিক্ততা কমে এবং তুলনামূলক মসৃণ স্বাদের কফি তৈরি হয়।  অবশ্য স্বাদের এই বৈশিষ্ট্য নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও কফিপ্রেমীদের মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে।

Black Ivory Coffee-এর তথ্য অনুযায়ী, সীমিত পরিমাণে কফি উৎপাদন হয় এবং প্রচুর কাঁচা কফি চেরি থেকে তুলনামূলক অল্প পরিমাণ প্রস্তুত কফি পাওয়া যায়। কোম্পানির বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্যে কাঁচা কফি চেরি থেকে প্রস্তুত কফির অনুপাত সম্পর্কে ভিন্ন সংখ্যা দেওয়া হয়েছে; তাদের সাম্প্রতিক FAQ-তে বলা হয়েছে, ২০ কেজি কাঁচা কফি চেরি থেকে প্রায় ১ কেজি Black Ivory Coffee পাওয়া যায়।

অন্য একটি কোম্পানি-প্রকাশিত প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে, উৎপাদনের ধরন অনুযায়ী প্রায় ১০,০০০টি কফি বীজ থেকে ১ কেজি রোস্টেড কফি পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াটি মোটেও সহজ বা দ্রুত নয়।

Black Ivory Coffee-এর তথ্য অনুযায়ী, হাতিদের স্বাভাবিক খাবারের মধ্যে ঘাস, কলা, তেঁতুল, চালের ভুসিসহ নানা খাবার থাকে। কফি চেরি তাদের খাদ্যের একটি অংশমাত্র। কোম্পানিটি আরও দাবি করে, কফি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হাতিগুলো মাহুতদের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং প্রাণী কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ছবি: সংগৃহীত

এই কফি কি সত্যিই হাতির মল থেকে তৈরি

সোজা কথায়—হ্যাঁ, কফির বীজ হাতির মল থেকে সংগ্রহ করা হয়। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। কফি হিসেবে যে জিনিসটি আপনি পান করেন, সেটি সরাসরি কোনোভাবেই হাতির মল নয়। হাতির খাওয়া কফি চেরির ভেতরের বীজ বা কফি বিন আলাদা করা হয়, এরপর সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার, শুকানো ও রোস্ট করা হয়। তাই নামটি শুনে যতটা অদ্ভুত মনে হয়, প্রস্তুত কফি তেমন নয়।

শুধু হাতির গল্পের কারণেই এর দাম এত বেশি নয়। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ।

১. উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত

Black Ivory Coffee নিজেই এটিকে বিশ্বের বিরলতম কফিগুলোর একটি হিসেবে বাজারজাত করে। কোম্পানির FAQ অনুযায়ী, বছরে মাত্র প্রায় ৫০০ পাউন্ড কফি উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে।  অর্থাৎ সাধারণ কফির মতো হাজার হাজার টন উৎপাদন করে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয় না।

২. উৎপাদন প্রক্রিয়া শ্রমসাধ্য

কফি চেরি সংগ্রহ, হাতিকে খাওয়ানো, পরে বীজ আলাদা করা, ধোয়া, শুকানো, বাছাই এবং রোস্ট—প্রতিটি ধাপেই শ্রম দরকার। এমনকি কফি বিনের আকার নিয়েও বাছাই করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, তারা নির্দিষ্ট আকারের বিনকে অগ্রাধিকার দেয় এবং ছোট বিন বাদ দেয়।

৩. দীর্ঘ ও অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া

কফি চেরি হাতির পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রচলিত কফির তুলনায় আলাদা ও জটিল।

৪. বিলাসবহুল পণ্যের ব্র্যান্ডিং

এই কফির আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর exclusivity বা সীমিত প্রাপ্যতা। কম উৎপাদন, অস্বাভাবিক উৎপাদন পদ্ধতি এবং বিলাসবহুল বাজারে অবস্থানের কারণে এর দাম সাধারণ কফির তুলনায় বহুগুণ বেশি। 

ছবি: সংগৃহীত

এক কেজি কফির দাম শুনে যদি আপনার চোখ কপালে ওঠে, তাহলে এক কাপের দামও কম নয়। Black Ivory Coffee-এর নিজস্ব প্রকাশিত তথ্যে এক সময় প্রতি কাপের দাম প্রায় ৭৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কাপ প্রতি দাম নির্দিষ্ট নয়। কোন হোটেল, রেস্তোরাঁ বা প্যাকেজে পরিবেশন করা হচ্ছে, তার ওপর দাম অনেকটাই নির্ভর করতে পারে। অর্থাৎ একই কফির বিন কিনে বাড়িতে তৈরি করা এবং কোনো বিলাসবহুল হোটেলে এক কাপ পান করার দাম এক হবে না।

কফির দুনিয়ায় ‘কোপি লুওয়াক’-এর সঙ্গে এর মিল

Black Ivory Coffee-এর গল্প শুনলে অনেকেরই মনে পড়বে Kopi Luwak-এর কথা। ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত Kopi Luwak তৈরিতে কফির চেরি খায় Asian palm civet বা লুওয়াক। পরে তার মল থেকে কফির বীজ সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ দুটি কফির উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি বড় মিল রয়েছে—দুই ক্ষেত্রেই প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে কফি বীজ যাওয়ার পর সেগুলো সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তবে Black Ivory Coffee-তে ব্যবহৃত হয় হাতি, আর Kopi Luwak-এ ব্যবহৃত হয় civet।

দামের তুলনা করার ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া দরকার। বাজার, উৎস, বন্য বা খামারভিত্তিক সংগ্রহ, রোস্টিং এবং প্যাকেজিং—সবকিছুর ওপর Kopi Luwak-এর দাম পরিবর্তিত হয়। বর্তমান বাজারের কিছু তালিকায় Kopi Luwak-এর দাম Black Ivory Coffee-এর তুলনায় অনেক কম দেখা যায়। Black Ivory Coffee-এর নিজস্ব বর্তমান তালিকায় ১ কেজির ‘Collector’ প্যাক ৩,৫০০ ডলার হওয়ায় এটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উচ্চমূল্যের কফির পর্যায়ে পড়ে। 

অনেকের কাছে বিষয়টি শুধু কফির স্বাদ নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা।
ভাবুন, আপনি এমন একটি কফি পান করছেন যার প্রতিটি বীজের যাত্রা শুরু হয়েছে থাইল্যান্ডের কফি বাগান থেকে, এরপর সেটি গেছে একটি হাতির পেটে, সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, পরিষ্কার ও প্রক্রিয়াজাত হয়েছে, তারপর আপনার কাপ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক যাত্রাটিই অনেকের কাছে কফিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

এই ধরনের কফির ক্ষেত্রে প্রাণী কল্যাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। Black Ivory Coffee তাদের ওয়েবসাইটে হাতিদের যত্ন, মাহুতদের ভূমিকা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছে। কোম্পানির দাবি, হাতিদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং কফি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোও এর মাধ্যমে আয় করে। তবে যেকোনো প্রাণী-নির্ভর খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রাণীকল্যাণের তথ্য আলাদা করে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

এক কাপ কফি আমাদের কাছে হয়তো সকাল শুরু করার সাধারণ একটি পানীয়। কিন্তু পৃথিবীর কোথাও কোথাও সেই কফিই হয়ে উঠেছে বিলাসিতার প্রতীক। Black Ivory Coffee-এর ক্ষেত্রে গল্পটা আরও অদ্ভুত। কফির গাছ থেকে চেরি, সেখান থেকে হাতির খাবার, হাতির পরিপাকতন্ত্র পেরিয়ে আবার কফির বীজ—তারপর দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় সেই কফি, যার এক কেজির বর্তমান খুচরা দাম ৩,৫০০ ডলার।
তাই প্রশ্নটা এখন আর শুধু “কফি কত দামি?” নয়।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]