কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ, তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের নামে থাকা ১৭১টি ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে মোট জমা রয়েছে ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম।
দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান আদালতে এ আবেদন করেন। আবেদনে কাজী জাফর উল্ল্যাহ, তার স্ত্রী নীলুফার জাফরউল্ল্যাহ, দুই ছেলে কাজী ওমর জাফর ও কাজী রায়হান জাফর এবং মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফরের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও লকার অবরুদ্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের নামে মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান ও বনানী শাখায় বিপুল পরিমাণ সঞ্চয়ী, চলতি ও এফডিআর হিসাবের পাশাপাশি লকার সুবিধাও রয়েছে।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কাজী জাফর উল্ল্যাহর নামে থাকা ৪৪টি হিসাব ও এফডিআরে মেঘনা ব্যাংকে ২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৩ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৭ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ টাকা জমা রয়েছে।
তার স্ত্রী নীলুফার জাফরউল্ল্যাহর নামে থাকা ২৪টি হিসাব ও এফডিআরে মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৮ কোটি ১৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮ টাকা রয়েছে। তার নামে মিডল্যান্ড ব্যাংকে ডাবল লকার সুবিধাও রয়েছে বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বড় ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে থাকা ৩৩টি হিসাব ও এফডিআরে মেঘনা ব্যাংকে ৭১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫ হাজার ১১১ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪৪ টাকা রয়েছে। তার নামেও লকার সুবিধা রয়েছে।
মেজ ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে ২৮টি হিসাব ও এফডিআরে মেঘনা ব্যাংকে ১২ কোটি ৪২ লাখ ১৯ হাজার ৪৩৪ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার ৪১৫ টাকা রয়েছে। তার ক্ষেত্রেও লকার সুবিধার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফরের নামে থাকা ৪২টি হিসাব ও এফডিআরে মেঘনা ব্যাংকে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩০ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৭৩ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ২০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৩০২ টাকা জমা রয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর বা রূপান্তরের চেষ্টা করতে পারেন। মামলা বা অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে সম্পদ হাতবদল হয়ে গেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ অবিলম্বে অবরুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে আদালত সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর