মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার এবং সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়ছে এশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপের অর্থনীতিতেও।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অন্তত ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত সপ্তাহে জ্বালানি তেলটির দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক বৃদ্ধি। শনিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মে মাসের পর এটিই ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ দাম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। শুক্রবার এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এশিয়ায় সামরিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবে হুথিদের বারবার হামলা জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ইউরোপের শেয়ারবাজারেও। দ্য আইরিশ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক স্টক্স ৬০০ দশমিক ১৩ শতাংশ কমে যায়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সূচকটি তিন সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের মুখে পড়েছিল। এতে সপ্তাহজুড়ে ইউরোপের শেয়ারবাজারে দরপতনের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়।
অন্যদিকে, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির সরকারের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, রাশিয়ায় পেট্রল ও ডিজেলের উৎপাদন বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে জ্বালানির মজুতও।
যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান বিওকে ফাইন্যানশিয়াল সিকিউরিটিজের ট্রেডিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেনিস কিসলারের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ইরানে আরও তীব্র সামরিক হামলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। এর ফলে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার পাশাপাশি এশিয়া ও ইউরোপের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এবং বাজার অস্থিরতার চাপও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর