বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। প্রতিবছর এই ট্রফি হাতে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা। তবে সোনালি এই ট্রফির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং দক্ষ কারিগরদের প্রায় ১০০ ঘণ্টার শ্রম। ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী গহনা ও স্বর্ণকার প্রতিষ্ঠান মেলেরিও (Mellerio) ১৯৫৬ সাল থেকে তৈরি করে আসছে ফুটবলের এই বিখ্যাত পুরস্কার।
ট্রফি তৈরির শুরু ছয় মাস আগে
মেলেরিওর তথ্য অনুযায়ী, ব্যালন ডি’অর তৈরির কাজ শুরু হয় নির্ধারিত হস্তান্তরের প্রায় ছয় মাস আগে। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০০ ঘণ্টার নিপুণ কারুশিল্পের প্রয়োজন হয়। ট্রফিটি তৈরি করতে ধাতু গঠন, ঝালাই, খোদাই, পালিশ ও সোনার প্রলেপ দেওয়ার মতো একাধিক ধাপ অনুসরণ করা হয়।
প্রথমে পিতলের দুটি অর্ধগোলক তৈরি করে সেগুলো ঝালাইয়ের মাধ্যমে জোড়া লাগানো হয়। এরপর দক্ষ কারিগর হাতে ফুটবলের প্যানেল ও সেলাইয়ের মতো সূক্ষ্ম রেখাগুলো ফুটিয়ে তোলেন। একটি ফুটবলের ৩২টি প্যানেলের আদল নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার কাজটি বিশেষ দক্ষতা ও ধৈর্যের দাবি রাখে। এই ধাপেই প্রায় ১৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
খাঁটি সোনার নয়, রয়েছে সোনার প্রলেপ
ব্যালন ডি’অর দেখতে সোনার তৈরি মনে হলেও পুরো ট্রফিটি খাঁটি সোনার নয়। এর মূল গোলাকার অংশটি পিতলের তৈরি, যার ওপর দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ। ফলে ট্রফিটির উজ্জ্বল সোনালি রূপের আড়ালে রয়েছে ধাতব কারুকাজ ও সূক্ষ্ম নির্মাণশৈলী।
ট্রফিটির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর ভিত্তি। গোলাকার বলটিকে বসানো হয় পাইরাইট নামের খনিজ পাথরের ওপর। মেলেরিওর বিশেষজ্ঞরা পাথর নির্বাচন ও সেটিকে ট্রফির সঙ্গে নিখুঁতভাবে মানানসই করে গড়ে তোলার কাজ করেন। প্রতিটি পাথরের গঠন আলাদা হওয়ায় এই ভিত্তিতেও থাকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
শেষ ধাপে খোদাই হয় বিজয়ীর নাম
ট্রফির কাঠামো তৈরি ও পালিশের পর এতে খোদাই করা হয় ব্যালন ডি’অর আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল-এর লোগো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্করণের পরিচিতি। সবশেষে বিজয়ীর নাম হাতে খোদাই করে ট্রফিটি চূড়ান্তভাবে সংযোজন করা হয়। বিজয়ীর নাম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখার বিষয়টিও এই প্রক্রিয়ার বিশেষ অংশ।
১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর পুরস্কার চালুর পর থেকে মেলেরিও এই ট্রফি তৈরির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। ফুটবলারদের অসাধারণ পারফরম্যান্স যেমন তাঁদের এই সম্মান এনে দেয়, তেমনি ট্রফিটির পেছনে থাকা কারিগরদের নিপুণ শ্রমও এটিকে অনন্য পরিচিতি দিয়েছে।
ফুটবলের মাঠে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অর; আর সেই স্বীকৃতির প্রতীকটি গড়ে ওঠে প্রায় ১০০ ঘণ্টার ধৈর্য, দক্ষতা ও নিখুঁত কারুশিল্পে।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর