জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আজ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) তাঁর বিরুদ্ধে এ আদেশ দেন আদালত। আদেশের পর পরীমনি জানান, পরোয়ানা জারি হওয়ায় তিনি আজ আদালতে যাবেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী। পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন মামলায় আদালতে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এটা কি সারা জীবন চলবে?’
গতকাল নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হননি। তাঁর পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় অসুস্থ থাকায় আদালতে আসতে পারেননি পরীমনি।
আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন আগামী ২৩ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
আদালতের আদেশের পর হাজির হওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে পরীমনি বলেন, ‘কালকে যাব কোর্টে, যেহেতু পরোয়ানা জারি করে ফেলেছে।’ মামলার কারণে কাজ ও সংসারজীবনে প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কাজের জায়গায় হচ্ছে, সংসারের জীবনে—সবকিছুর ওপরেই তো একটা চাপ।’ এ সময় প্রচণ্ড হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরীমনি। তাঁর অভিযোগ, তদন্ত যথাযথভাবে হচ্ছে না।
এ মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের দিন আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। প্রায় এক বছর নয় মাস পর একই মামলায় আবারও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে পড়লেন এ অভিনেত্রী।
২০২১ সালের জুনে ঢাকা বোট ক্লাবের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত। ওই ঘটনার পর পরীমনি নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ৬ জুলাই পরীমনির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নাসির।
নাসিরের অভিযোগ, বিনা মূল্যে মদের বোতল দিতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন এবং গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মারেন। এ ছাড়া মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি। অন্যদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমনির করা মামলাটিরও বিচার চলছে। ফলে একটি মামলায় তিনি বিচারপ্রার্থী, অন্যটিতে আসামি।
নাসিরের করা মামলায় ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে আদালতের সমন পেয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন পরীমনি।
এর বাইরে ২০২১ সালের আগস্টে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। তিন দফা রিমান্ড শেষে জামিন পান তিনি। প্রায় এক মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আদালতে যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে তাঁর। নিজের করা বোট ক্লাব মামলায় সাক্ষ্য ও জেরা এবং অন্য মামলাগুলোর শুনানিতেও তাঁকে অংশ নিতে হচ্ছে।
২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পরীমনির। এরপর ‘মহুয়া সুন্দরী’, ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’; এতে তাঁর সহশিল্পী ইমতিয়াজ বর্ষণ। গত অক্টোবরে জন্মদিন উপলক্ষে নতুন সিনেমা ‘ফারজানা’র ঘোষণাও দেন পরীমনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চলমান আইনি জটিলতার কারণে আবারও আদালতে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে তাঁকে।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর