দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকল শ্রমজীবী মানুষ বছরে দুইটি ঈদে ঈদ বোনাস পেলেও দেশের ৬০ লক্ষ দোকান, রিটেইল, শপিংমল ও চেইনশপ কর্মচারীরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জাতীয় দোকান কর্মচারী ফেডারেশন (এনএসইএফ)-এর নেতৃবৃন্দ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ তথ্য উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সারা দেশে দোকান, রিটেইল, শপিংমল ও চেইনশপে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মচারী কর্মরত। এই কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত দেশের মানুষকে সেবা দান করে তাদের জীবনকে সহজ ও আনন্দময় করে তুলছেন। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে এই ৬০ লক্ষ শ্রমিক কর্মচারী দেশের মানুষ ও মালিকদের জন্য অমানবিক ও অমানুষিক ভাবে কাজ করবেন।
স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার বাইরে তাদের প্রতিদিন ১২, ১৪ বা ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হবে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সকাল থেকে শুরু করে সারারাত পর্যন্ত কাজ করতে হবে। দেশের এই ৬০ লক্ষ শ্রমিক কর্মচারী নিজেদের বিশ্রাম, বিনোদন, আরাম-আয়েশ পরিত্যাগ করে শ্রম দেবেন।
এর বিনিময়ে একদিকে দেশের মানুষের জীবন সহজ ও আনন্দময় হবে, অন্যদিকে মালিকদের মুনাফার পাহাড় গড়ে উঠবে। কিন্তু যে মানুষেরা দেশের জনগণের জন্য নিজেদের বিশ্রাম, বিনোদন, আরাম-আয়েশ পরিত্যাগ করে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, মালিকদের সম্পদের পাহাড় গড়ছেন, সেই মানুষগুলোই তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদা তো দূরের কথা, আইনসম্মত অধিকার এবং সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। তাই এ বছর যাতে এই ৬০ লক্ষ শ্রমিক কর্মচারী দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ঈদ বোনাস পান, সে বিষয়ে নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সরকার, কলকারখানা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি এবং দোকান মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পবিত্র রমজান মাসে প্রতিদিন ২ থেকে ১০ ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) বিপরীতে ওভারটাইম ভাতা প্রদান এবং রাত ১০টার পর কাজ করালে শ্রমিক কর্মচারীদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে উল্লেখ করা হয় যে, এই সেক্টরের শ্রমিকদের এখনো পর্যন্ত নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র নেই। আইন অনুযায়ী সপ্তাহে দেড় দিন ছুটি থাকার বিধান থাকলেও তা মানা হয় না। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বেতন-ভাতা দেওয়ার আইন থাকলেও সেটিও মানা হয় না। এখনো পর্যন্ত এ সেক্টরের শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য মজুরি বোর্ড নেই।
সংবাদ সম্মেলন থেকে নিম্নলিখিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়:
ক. বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কাছে স্মারকলিপি পেশ।
খ. শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর-এর মহাপরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি পেশ।
গ. বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন-এর কাছে স্মারকলিপি পেশ।
একই সাথে সারাদেশের ৬০ লক্ষ দোকান, রিটেইল, শপিংমল ও চেইনশপ কর্মচারীদের সভা সমাবেশ অব্যাহত থাকবে। ফেডারেশনের সভাপতি জনাব রফিকুল ইসলাম বাবুল-এর সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব আমিরুল হক আমিন।
উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব কামরুল হাসান, জনাব হযরত আলী মোল্লা, জনাব আব্দুস সালাম, জনাব পরেশ মজুমদার, জনাব ফজল হক, জনাব বাবুল বেপারী, মোঃ শফিউল্লাহ জুয়েল, জনাব দিদার হোসেন, জনাব খলিলুর রহমান, মিস সুরাইয়া জেসমিন রুমা, মিসেস আলেয়া বেগম, মিসেস জেসমিন বেগম প্রমুখ।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নেতা জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব আ.স.ম জাকারিয়া, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক জনাব বাবুল আকতার, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিল্ডিং এন্ড কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি জনাব আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ বিল্ডিং এন্ড কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব আনোয়ার হোসাইন, ঢাকা শহর রুটি বিস্কুট ও কনফেকশনারী শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ লোকমানসহ অন্যান্যরা।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর