যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক দিনেই ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে—এমন খবরে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ অনেকটাই কেটে গেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০ শতাংশের বেশি কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিলে তেলের বাজার শান্ত হতে শুরু করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক প্রয়াস ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান আলোচনায় বসেছে।
পাশাপাশি কাজাখস্তানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথ রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলের ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম টার্মিনাল থেকে ফের অপরিশোধিত তেল পরিবহন শুরু হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে।
তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলেও বাজারের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবু এলাকার স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। যদিও সৌদি সরকার কিংবা সৌদি আরামকো কর্তৃপক্ষ এই দাবির সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর