পাহাড়ের গায়ে মাত্র ৫২৭ মিটারের রানওয়ে। একদিকে উঁচু পাহাড়, অন্যদিকে গভীর উপত্যকা। তার ওপর রানওয়েটিও ঢালু। নেপালের টেনজিং-হিলারি বিমানবন্দর বা লুকলা বিমানবন্দর তাই বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত।
মাউন্ট এভারেস্ট অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৮৪৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। নেপাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, এর রানওয়ে মাত্র ৫২৭ মিটার দীর্ঘ ও ২০ মিটার প্রশস্ত। রানওয়েতে রয়েছে প্রায় ১১.৭ শতাংশ ঢাল।
এই ঢালই আবার বিমান ওঠানামায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অবতরণের সময় বিমান উঁচুর দিকে ওঠে, ফলে গতি কমিয়ে থামতে সুবিধা হয়। আর উড্ডয়নের সময় নিচের দিকে ঢাল বিমানকে দ্রুত গতি পেতে সহায়তা করে।
লুকলায় বড় যাত্রীবাহী বিমান চলাচল করে না। এখানে সাধারণত ছোট আকারের বিমান ব্যবহার করা হয়। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচলও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।

বিমানবন্দরটির ইতিহাসেও রয়েছে দুর্ঘটনার ঘটনা। ২০০৮ সালে ইয়েতি এয়ারলাইন্সের একটি বিমান দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হন। ২০১৯ সালে সামিট এয়ারের একটি বিমান উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন।
তবে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিমানবন্দর’ নামে কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং নেই। তাই লুকলাকে বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং বিমানবন্দর বলা বেশি নির্ভুল।
তারপরও মাত্র ৫২৭ মিটারের ঢালু রানওয়ে, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে লুকলা বিমানবন্দর নিঃসন্দেহে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিমানবন্দরগুলোর একটি। এভারেস্ট অভিযানে অনেকের প্রথম রোমাঞ্চ শুরু হয় পাহাড়ের চূড়ায় নয়, এই ছোট্ট রানওয়েতেই।

লুকলা শুধু ভয় নয়, সৌন্দর্যও
লুকলার সৌন্দর্য তার ভয়ংকর রানওয়ের মতোই বিস্ময়কর। চারপাশে বিশাল হিমালয়, বরফঢাকা পাহাড়ের সারি, সবুজ উপত্যকা আর মেঘের ভেলায় ভেসে থাকা পাহাড়ি পথ—সব মিলিয়ে এখানকার প্রকৃতি যেন ছবির মতো।
আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরে দেখা যায় তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গ। পাহাড়ের ঢালে ছোট ছোট বসতি, পাথুরে পথ আর সবুজ বনভূমি লুকলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। বসন্তে পাহাড়ি ফুলের রং আর শরতে নির্মল নীল আকাশ এই অঞ্চলকে করে তোলে আরও মনোমুগ্ধকর।
এভারেস্টের পথে ট্রেকারদের কাছে তাই লুকলা শুধু যাত্রা শুরুর জায়গা নয়; এটি হিমালয়ের প্রকৃতির সঙ্গে প্রথম পরিচয়েরও এক অনন্য দরজা। একদিকে রোমাঞ্চকর বিমানবন্দর, অন্যদিকে শান্ত পাহাড়, মেঘ আর বরফের অপূর্ব মেলবন্ধন—লুকলার আকর্ষণ এখানেই।
তথ্যসূত্র: Nepal Civil Aviation Authority; Aviation Safety Network.
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর