আগামীতে যেকোনো জাতীয় সংকটে গণঅধিকার পরিষদ জাতিকে পথ দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন ও রক্তের বিনিময়ে গণঅধিকার পরিষদ আজকের রাজনৈতিক অবস্থানে এসেছে। ভবিষ্যতেও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দলটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আল রাজি কমপ্লেক্সে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
নুরুল হক নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পর্যায়ে গণঅধিকার পরিষদ ও এর নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে গণঅধিকার পরিষদ প্রতিষ্ঠার সময় ঘোষিত ২১ দফা কর্মসূচিতে রাষ্ট্র সংস্কারের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং একজন ব্যক্তির দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল। গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করা ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার এসব দাবি দলটি শুরু থেকেই তুলে ধরে আসছে।
গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে দলটির সভাপতি বলেন, নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে কিংবা কোনো কেরামতিতে আজকের অবস্থানে পৌঁছাননি। আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তাঁদের এই অবস্থান তৈরি হয়েছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই দলটির রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি।
বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির আস্ফালন দেখার জন্য অতীতে আন্দোলন-সংগ্রাম করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, একটি দল জুলাইয়ের চেতনার কথা বললেও মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়তে বাধা দেয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশকে অসভ্যতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজেদের স্বাধীনতাবিরোধী পরিচয় আড়াল করতেই এমন কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে বলে দাবি করেন নুর। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গুপ্ত সংগঠনগুলো দেশের অগ্রগতি চায় না।
জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, এ সময়ে দলটিকে রাজনৈতিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব চেষ্টা সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে গণঅধিকার পরিষদ। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনের মধ্য দিয়ে দলটির নেতারা অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও জাতীয় রাজনীতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর