ভাঙা আঙুল নিয়েই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পুরো আসর খেলেছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ। শুধু তাই নয়, চোট নিয়েই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন তিনি। একের পর এক ১১টি শট ঠেকিয়েও দলকে শিরোপা জেতাতে পারেননি। এবার সেই চোটের ভয়াবহ পরিণতির কথা জানালেন আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষক। তাঁর ডান হাতের অনামিকা আঙুলটি স্থায়ীভাবে বেঁকে গেছে। পুরোপুরি মুঠো করতেও পারেন না তিনি।
সম্প্রতি ‘লস এদুল’ নামের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের চোটের বিস্তারিত তুলে ধরেন মার্তিনেজ। সেখানে তিনি ডান হাত দেখিয়ে জানান, আঙুলটি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচার করলে আঙুল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারত। কিন্তু অস্ত্রোপচার করলে বিশ্বকাপ খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। তাই দেশের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মার্তিনেজ জানান, তাঁর ডান হাতের অনামিকা আঙুলটি স্থানচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি ভেঙেও গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা আঙুলটি জায়গামতো বসিয়ে দিলেও হাড়ের অবস্থান স্বাভাবিক হয়নি। ফলে আঙুলটি পুরোপুরি ভাঁজ করতে পারেন না তিনি। এ ক্ষতি আজীবন থেকে যাবে বলেও জানিয়েছেন এই গোলরক্ষক। মজা করে তিনি বলেন, এখন আর কাউকে ঠিকমতো ঘুষি মারতেও পারবেন না।
মার্তিনেজের এই চোটের সূত্রপাত ২০২৬ সালের ২০ মে। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে ওয়ার্ম-আপ করার সময় ডান হাতের অনামিকা আঙুল ভেঙে যায় তাঁর। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও দলের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলেন তিনি। ওই ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলা ৩-০ গোলে জয় পায়।
পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, অস্ত্রোপচার না করলে আঙুল স্বাভাবিকভাবে জোড়া লাগবে না। অস্ত্রোপচার করলে প্রায় ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতো। কিন্তু বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার স্বপ্ন থেকে সরে আসতে চাননি মার্তিনেজ। তাই অস্ত্রোপচার না করেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করেন।
চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুতে সতীর্থদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারেননি তিনি। প্রথম দিকে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবহার করে অনুশীলন করেন। এমনকি স্বাভাবিক ফুটবলের পরিবর্তে ভলিবল দিয়েও অনুশীলন করতে হয়েছে তাঁকে। পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অনুশীলনে ফেরেন।
বিশ্বকাপের পুরো আসরেই আর্জেন্টিনার গোলবার সামলেছেন মার্তিনেজ। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। ১১টি শট ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তবে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।
মার্তিনেজের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্তের কারণে আঙুলের স্বাভাবিক অবস্থা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়নি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও আঙুলে ব্যথা অনুভব করছিলেন তিনি। পরে এক্স-রে করানোর পরও ভাঙা আঙুলের সমস্যা থেকে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ভবিষ্যতে ব্যথা কমানো ও আঙুলের কার্যক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্রোপচার করাতে হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে এমন চোটের ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্তিনেজের এই স্বীকারোক্তি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর